DBC News
ক্যাম্পাসে ভিসির অনুপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ক্যাম্পাসে ভিসির অনুপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর তিনি শুধুমাত্র কয়েকটি সভা, সেমিনার ছাড়া অধিকাংশ সময়ই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন।

২০১৭ সালের ১৪ই জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এমন শর্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি একাই ২১টি অনুষদের ২৬ কোর্স নিয়ে থাকেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতির কারণে দীর্ঘ সেশন জটের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসির অনুপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা। তার ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজেও বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়তির শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ভিসির উপস্থিত থাকা না থাকা আপেক্ষিক বিষয়। আর সাবেক শিক্ষক সমিতির সভাপতির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে সার্বক্ষনিক ক্যাম্পাসে উপাচার্যের উপস্থিত থাকা জরুরি।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান জানান, উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে কম উপস্থিত থাকেন, তিনি উপস্থিত থাকলে ভালো হত। কিন্তু তার উপস্থিত না কারণে ক্যাম্পাসে খুব বেশি জটিলতা সৃষ্টি হয়না বলেই মনে করেন এই শিক্ষক নেতা।

অন্যদিকে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ''উপাচার্যের উপস্থিত না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই একরকম ইমেজ সংকটে পড়েছে। তিনি মনে করেন উপাচার্য মহোদয়ের ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে এই সংকট দূরীকরণে ভূমিকা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তবে উপাচার্যের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেই তাকে ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এ বিষয়ে জানান, একটা অনুসন্ধান করতে আরেকটা জটিলতা সৃষ্টি হয়, আর এসব জটিলতার সমাধান করতে হলে তা স্থানীয় করা সম্ভব না। তাই তাদের একটা ছুটোছুটির মধ্যে থাকতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সুত্র জানায়, যোগ দেয়ার পর ৩৪০ কর্মদিবসে বর্তমান ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯০ দিন।