DBC News
আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের তাগিদ

আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের তাগিদ

দেশে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ আম উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লোকসান গুণছেন অনেক বাগান মালিক। এ অবস্থা দূর করতে বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং সরকারিভাবে জেলায় জেলায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশা ছিলো ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করে লাভবান হবেন। এখন ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, শ্রমিকের খরচ উঠাতে পারছেনা বাগান মালিকেরা।

বাগান মালিকরা জানান, উন্নত জাতের আমের জন্য একটি মূল্য নির্ধারণ করা উচিত যেন আম চাষীদের লোকসান গুনতে না হয়। আর এভাবে যদি লোকসান হতে থাকে তাহলে ব্যবসা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যাবে বলেও জানান আম বাগানের মালিকরা।

এবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে প্রায় ৮০৫ হেক্টর জমির আম বাগানে উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ৫০ হাজার মেট্রিকটন আম। হয়েছে তার দেড়গুণেরও বেশি।

পানির দরে আম বিক্রি হচ্ছে রাজশাহীতেও। এতে চাষীরা পড়েছেন লোকসানের মুখে।

চাষীরা জানান গেল বছরও ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হয়েছে কিন্তু এবার দাম কমে ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এতে ব্যবসায়ীরা শ্রমিকের খরচও উঠাতে পারছননা বলেও জানান।

চাষীদের লোকসান ঠেকাতে ভালো জাতের আম বাগান করাসহ সরকারিভাবে আম সংরক্ষণাগার তৈরির কথা বলছেন গবেষকরা।

রাজশাহী ফল গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দীন জানান, যদি আম কেন্দ্রিক সরকারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠতো তাহলে এই আমগুলো সেখানে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হত। তাহলে যেমন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হত তেমনি দেশেরও বিভিন্ন স্থানে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হত বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে সাতক্ষীরায় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন আম ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা শহরের কাঁচা ও পাকামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী বলেন, 'সাতক্ষীরায় কোন হিমাগার না থাকায় আম সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আর এই ক্ষতি শুধু যে ব্যবসায়ীদের তা নয় যারা বাগানের মালিক তদেরও। আর ধারাবাহিকভাবে লোকসান হতে থাকলে বাগান মালিকরা এই ব্যবসা থেকেও সরে আসবেন বলেও জানান রওশন আলী।

বাম্পার ফলনের সময় কৃষকদের সঠিক দাম পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা।

প্রাণ এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, 'আমাদের দেশের যে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি এটার যদি আমরা পরিবর্তন ঘটাতে চাই এবং কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চাই তাহলে দেশে অন্তত আরও ১শ টি বেসরকারি কোম্পানি প্রয়োজন। যারা সরাসরি কৃষকের সঙ্গে কাজ করবে তাহলেই কৃষক, কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।'