DBC News
সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে প্রতিশ্রুতি দিলেন কিম

সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে প্রতিশ্রুতি দিলেন কিম

কোরীয় উপদীপে পরমানু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন একটি নথিতে সই করেছেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণ পরমানু নিরস্ত্রীকরণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিম জং উন।

বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণরুপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছেন কিম। এছাড়া অতীতের তিক্ততা ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদও জানান দুই নেতা। 

নানা চড়াই-উতরাই, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক এই বৈঠক। সিঙ্গাপুরে স্যান্তোসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে প্রথমে ৪৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক করেন দুই নেতা। 

এরপর মধ্যাহ্ন ভোজের পর দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও কিম। এ সময় তাদের সাথে বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং কিমের পক্ষে তার বোন কিম ইয়ো জংসহ দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর যৌথ নথিতে সই করেন দুই নেতা।

এ সময় ট্রাম্প বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে একমত হয়েছেন তারা। বৈঠকে অংশ নেয়ায় কিম জং উনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদও জানান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি সম্মানিত বোধ করছি এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করতে পেরে। এছাড়া একে অপরকে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পেয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে দু'দেশের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে।'

অন্যদিকে কিম বলেন, 'এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর, একটি বড় পরিবর্তনের শুরু মাত্র।'

কিম জং উন জানান, 'আমরা অতীতকে ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক কথা হয়েছে। সামনেরও দিনগুলোতেও এটি অব্যাহত থাকবে।'
 
সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'কিম আমাকে কথা দিয়েছেন, মূল মিসাইল সাইটগুলো ধ্বংস করে ফেলবেন শিগগিরই। এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করলো দুই দেশ। তবে অর্থনৈতিক অবরোধ এখনই তুলে নিচ্ছি না আমরা।'

এর আগে, গেল মাসে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে পিয়ংইয়ং রাজি না হওয়ায় বৈঠক বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তবে হাল ছাড়েনি উত্তর কোরিয়া। কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আবারও বৈঠকে রাজি হন ট্রাম্প।