DBC News
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর চার দফা প্রস্তাব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর চার দফা প্রস্তাব

জি-সেভেন সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।

শনিবার কানাডার কুইবেকে আউটরিচ সেশনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানদের সামনে শেখ হাসিনা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের ৪৪ তম সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী এখন কানাডার কুইবেকে। সম্মেলনের ভেন্যুতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভর্থনা জানান জাস্টিন ট্রুডো।

এরপর প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন আউটরিচ অধিবেশনে। কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সভাপতিত্বে এই সেশনে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ‍শিনজো আবেও যোগ দেন। সেখানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। 

সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব হলো-

১. রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সঙ্গে  দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে রাজি করাতে হবে।

২. মিয়ানমারকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. রাখাইনে নিপীড়নের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য কাজ করতে হবে।

৪. রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, 'রোহিঙ্গাদের সমস্যার মূল মিয়ানমারেই নিহিত এবং তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের নিজ গৃহে ফিরে যেতে হবে, যারা সেখানে শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে।'

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এই প্রক্রিয়া যাতে স্থায়ী ও টেকসই হয় সে জন্য আমরা এতে ইউএনএইচসিআর’কে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’ 
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গেল বছরের ২৩শে নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই করে বাংলাদেশ। 

এরপর দু'দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং ১৬ই জানুয়ারি ওই গ্রুপের প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন বিষয় ঠিক কোরে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ স্বাক্ষরিত  হয়।

তবে, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে আট হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেয়া হলেও এখনও কেউ ফিরতে পারেনি রাখাইনে।

আরও পড়ুন

অসুস্থতার কারণে সংসদ থেকে আশরাফের ছুটি

অসুস্থতার কারণে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে ৯০ কার্যদিবসের ছুটি দেয়া হয়েছে। এর আগে তার পক্ষে ছুটির আবেদন পাঠ করেন জাতীয় সংসদের স্প...

বাংলাদেশ-ভারত উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ও ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুরের মধ্যে রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভা...

২১ আগস্ট:  হুজি- তারেকের দফায় দফায় বৈঠক

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে ঘৃন্যতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা পরিকল্পনা করা...

একনেকে ইভিএম ক্রয় সংক্রান্ত প্রকল্পের অনুমোদন

প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন, ইভিএম ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, এ...