DBC News
সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কমেছে

সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কমেছে

লালমনিরহাটের ২শ ৮৪ কিলোমিটার সীমান্ত পথের প্রায় ৫৪ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেঁড়া নেই। ফলে একসময় সহজে মাদকের বড় বড় চালান ঢুকতো এসব সীমান্তপথ দিয়ে। উৎসবের দিনগুলোকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় সরগরম থাকতো।  কিন্তু, এখন চিত্র ভিন্ন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে কমেছে মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। 

বিজিবির তৎপরতার পাশাপাশি সীমান্তঘেঁষা এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ও পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের স্বজনদের সাথে কাউন্সেলিং ও উঠান বৈঠক করছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, অনেক মাদক ব্যবসায়ী দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে। গা ঢাকা দিয়েছে কেউ কেউ।

এদিকে, দিনাজপুরের হিলি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক বেশ সহজলভ্য। তাই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা। এই কারণে অন্য এলাকার তুলনায় হিলিতে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা অনেক বেশি। আর হিলির অন্য এলাকার তুলনায় দক্ষিণ বাসুদেবপুর সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম চুড়িপট্টিতে মাদক কেনা বেচাসহ সেখানে মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা বেশি। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকসেবীরা প্রতিদিন এখানে আসে। এছাড়াও সীমান্তের রেলওয়ে কলোনি, মধ্যবাসুদেবপুর, রাজধানীমোড়, দক্ষিণবাসুদেবপুর, মহিলা কলেজ, সাতকুড়িসহ হাড়িপুকুর ও মংলা এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের ব্যবসা।
তবে অভিযানের ফলে এসব স্থানের ব্যবসা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও বন্ধ হয়নি। 

পুলিশ জানায়, অভিযানে গত এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে ১৮৩২ বোতল ফেন্সিডিল, নেশাজাতীয় এ্যমপোল ১৩৬০পিস, ইয়াবা ট্যাবলেট ১২৫৯পিস, ইনজেকশন ৩৫০টি, মদ ১১ বোতল, গাঁজা ৯শ গ্রাম ও হেরোইন উদ্ধারসহ ১৪৪জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হিলি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আখিউল ইসলাম জানান, 'আমি হাকিমপুর সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই হাকিমপুর তথা হিলিকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এর ওপর চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই স্লোগানে সারাদেশে যে অভিযান চলছে তার অংশ হিসেবে হিলিতেও প্রতিদিন আমরা অভিযান পরিচালনা করছি এবং সে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই আমরা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করছি এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করছি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সেই চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।'

অভিযানের নাম করে কাউকে হয়রানি বা আতঙ্ক সৃষ্টি নয় বরং মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবসময়ই আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর আন্তরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে- এমনটিই আশা করেন সাধারণ মানুষ।

গেল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাদক বিরোধী অভিযানে নামে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান ‍শুরুর পর থেকে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছে, এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যের আত্মীয় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাও আছেন। আটক হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। 

আরও পড়ুন

'তারেক রহমানের বিষয়টি আদালতের, নির্বাচন কমিশনের নয়'

সাজাপ্রাপ্ত আসামির জেলে থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রার্থীদের নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু তারেক রহমান যেহেতু দেশের বাইরে সেক্ষেত্রে এটা আদালতের বিষয় ব...

শুরু হলো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

দেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। যাতে অংশ নিচ্ছে ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী। ...

তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ছয়জন। রবিবার সকালে, রংপুরের লাহিড়ীহাটে ট্রাকের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। আজ...

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বান্দরবান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম পার্বত্য জেলার বান্দরবান। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রধান দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। পার্বত্য...