DBC News
জাল টাকা তৈরির পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

জাল টাকা তৈরির পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর শ্যামপুরের বৌ বাজার এলাকায় জাল টাকা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬ লাখ টাকার জালনোট তৈরির পরিমাণ সরঞ্জাম।

বুধবার দুপুরে শ্যামপুরের বৌ বাজার এলাকার ছয় তলা ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের আগে থেকেই তাদের কাছে তথ্য ছিলো রাজু নামে একজন এই বাসাটি ভাড়া নিয়ে জালটাকা তৈরির কারখানা বসিয়েছে। সে অনুযায়ী বাসায় গিয়ে জালটাকা বানানোরত অবস্থায় হাতেনাতে গ্রেফতার হয় পাঁচজন। এই লাখ লাখ টাকা ছাপানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বাজারে কিনতে পাওয়া একেবারে সাধারণ মানের কাগজ। প্রথমে দুটি কাগজকে একত্রিত করে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় টাকার নিরাপত্তা সূতা। এরপর প্রিন্টারে বের করা হয় এক হাজার টাকার নোট। পরে এই টাকায় হাতে চালানো মেশিনে করে দেয়া বাকি ছাপ। এমনকি আসল টাকায় থাকা উঁচুনিচু ব্লাইন্ড ডট ও থাকে এসব জাল টাকায়।

অভিযানে গ্রেপ্তার জাকির হোসেন জানান, বছর তিনেক আগে রেস্তোরাঁ কর্মীর চাকরি ছেড়ে জাল টাকা তৈরির কাজ শেখেন। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে একবার জেল খাটেন ছমাস। বেরিয়ে আবারো একই অপরাধে জড়ান। একশটি একহাজার টাকার নোট অর্থাৎ একলাখ টাকা তৈরি করতে তার সময় লাগে দুই দিন।

জাল টাকার কাগজ প্রস্তুত, নিরাপত্তা সুতো স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করেন এই চক্রের মূলহোতা রফিকুল ইসলাম। আট বছরে দুই বার জেল খাটলেও ছাড়েন নি অবৈধ এই কারবার। তিনি জানান, এক লাখ মূল্যমানের জাল টাকা তৈরিতে খরচ পড়ে সাত হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় দশ হাজারে।

পুলিশ জানায়, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা কোটি কোটি জাল টাকা বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করছে।

এছাড়া প্রায় তিন কোটি মূল্যের জাল টাকা বানানোর রসদও জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান।

এই চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, সহায়তা এবং জাল নোট বাজারজাতকরণে জড়িত অন্য তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।