DBC News
আজম খানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজম খানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযোদ্ধা- সংগীত শিল্পী আজম খানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। 

বাংলা রক গানের কিংবদন্তী আজম খান। ১৯৫০ সালে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম মাহবুবুল হক খান। বাবার নাম আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও মা জোবেদা খাতুন। তার শৈশবের পাঁচ বছর কাটে আজিমপুর কলোনিতে। তারা ৪ ভাই ও এক বোন ছিলেন। ছেলেবেলা থেকেই বন্ধুদের আড্ডা আর গণসংগীতের মঞ্চে তার প্রাণময় গান উজ্জীবিত করে রাখতো শ্রোতাদের।


১৯৫৫ সালে তিনি প্রথমে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তার বাবা কমলাপুরে বাড়ি বানালে সেখানে চলে যান পরিবারসহ। কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে এসে ভর্তি হন। তারপর ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সালে টি অ্যান্ড টি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করেন।

বাধভাঙ্গা তারুন্যের জোয়ার আর বিশ্বায়নের ডাকে সারা দিয়ে বিশ্ব সংগীতের বিভিন্ন ধাচে নিজের গানের উপকরণ খুঁজে পেলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর লোকজ ধারাকে আজীবন বহন করেছেন নিজের গানে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে। স্বাধীন বাংলাদেশে আজম খানের গান বিমুগ্ধ করে রাখে দেশের তরুন সমাজকে।

আজম খান একাধারে ছিলেন সংগীতশিল্পী, গিটারিস্ট ও গীতিকার। ১৯৮২ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘এক জনম’। তিনি একে একে ১৬৮টি একক গান ৩০টি মিক্সস গান সহ ১৪টি এ্যালবামের মাধ্যমে শ্রোতাদেরকে অসংখ্যা জনপ্রিয় গান উপহার দেন। আজম খানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে-‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল দুলাল’, ‘অনামিকা চুপ’, ‘সারা রাত’ ইত্যাদি।


শ্রোতাদের ভালবাসায় পেয়েছিলেন গুরু, পপ সম্রাট, রক সম্রাট সহ নানা খেতাব। ২০১১ সালের ৫ই জুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কিংবদন্তী গায়ক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৬১ বছর। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে সমাহিত করা হয়।