DBC News
প্লাস্টিক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

প্লাস্টিক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

'প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি'--এই শ্লোগান নিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।

প্লাস্টিক দূষণের ফলে পরিবেশের পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে মানব স্বাস্থ্যের। তাই প্লাস্টিক বর্জনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হলেও নেই তার বাস্তবায়ন। খাবার প্যাকেটজাত ও বোতলজাত করার পাশাপাশি নানা আসবাবে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিক। ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের মোড়ক, বোতল, ব্যাগসহ নানা জিনিস ক্ষতি করছে পরিবেশ ও প্রতিবেশের। এসবের সবশেষ গন্তব্য সমুদ্র হওয়ায় দূষিত হচ্ছে তাও।

পরিবেশবিদ ড. শাহরিয়ার হোসাইন জানান, প্যাকেজিংয়ের যে প্লাস্টিক সেগুলো কিন্তু রিসাইকেল সেভাবে হচ্ছে না ফলে এগুলো ড্রেনে যাচ্ছে এবং শহরের পানি নিষ্কাসন পদ্ধতি বন্ধ করে দিচ্ছে। যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি বড় বড়  শহরগুলোতে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্লাস্টিকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এসবের উপর বেশি বেশি কর আরোপের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আইডব্লিউবি'র নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, 'যখন আপনি প্লাস্টিকের কোন জিনিস কিনবেন তখন তার দাম যেন দ্বিগুন হয়। যেমন, আপনি চা কিনতে গেলে চা দোকানী আপনাকে বলবে পাঁচ টাকা কিন্তু যখন আপনি দোকানীকে প্লাস্টিকের কাপে চা দেয়ার কথা বলবেন তখন দোকানী আপনাকে বলবে আট টাকা বা দশ টাকা। এভাবেই প্লাস্টিক পণ্যের ওপর বেশি বেশি কর আরোপ করে নিরুৎসাহিত  করার কথা বলছেন দেবরা ইফরইমসন।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো প্লাস্টিক মাটিতে মিশতে সময় লাগে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর, যা মাটি, পানি, বায়ুসহ সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

ড. শাহরিয়ার হোসাইন আরও জানান, প্যাকেজিং এবং মিনি প্যাকে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত। পর্যায়ক্রমে যেসব প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার সম্ভব সেদিকে আমাদের নজর দেয়া উচিত।

আইডব্লিউবির নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন আরও জানান, পৃথিবীতে যত প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে তার মাত্র পাঁচ থেকে সাত ভাগ রিসাইকেল করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিলেন পরিবেশবিদরা।