DBC News
মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকাতায় জনপ্রতিনিধি-রাজনীতিক-পুলিশ

মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকাতায় জনপ্রতিনিধি-রাজনীতিক-পুলিশ

রাজধানীতে মাদক ব্যবসা ও পৃষ্ঠপোষকতা করছেন রাজনীতিবিদ-জনপ্রতিনিধি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা, এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

সন্দেহভাজন কয়েকজনের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ষড়যন্ত্র করে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির ঊনপঞ্চাশ থানাভিত্তিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হাল নাগাদ করে প্রায়দিনই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেই তালিকাতে নাম এসেছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ আট সরকারদলীয় নেতার নাম।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, পল্লবী থানা এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী, একাধিক মামলার আসামি মোস্তাককে পৃষ্ঠপোষকতা দেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল আব্দুর রউফ নান্নু।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সপ্তাহ খানেক ধরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে অনুপস্থিত তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কয়েকদিন ধরে বাসাতেও থাকছেন না কাউন্সিলর নান্নু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাফরুলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ডিএসপি বাবুও আত্মগোপনে রয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ আছে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেলের বিরুদ্ধেও।

ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা জানান, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন। ছেলের বিরুদ্ধে যদি এমন কোন প্রমাণ আসে তাহলে তিনি নিজেই তার ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন বলে জানান জামাল মোস্তফা।

এদিকে পল্লবী থানায় চাকরিরত অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ উঠেছে দুই উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও মাজেদ বসুনিয়ার বিরুদ্ধে।

ডিএমপি উপ পরিদর্শক বিল্লাল হোসেন জানান, এই অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ন্যায় বিচার করা হোক। মাদকের সঙ্গে জড়িত কোন মহল এই চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন বিল্লাল।

ডিএমপির আরেক উপ পরিদর্শক মাজেদ বসুনিয়া ফোনে জানান, যদি তার বিরুদ্ধে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি তা মেনে নেবেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়ার কথা জানান ডিএমপির অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা এমন অবাঞ্চিত বা অনাকাঙ্খিত কাজ করেছে তাদের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেবে পুলিশ বিভাগ। সেই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে বলে জানান কৃষ্ণ পদ রায়।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে চলমান অভিযান ঈদ পর্যন্ত জোরেশোরে চলবে। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।