DBC News
নজরদারিতে মাদকে জড়িত শতাধিক কারারক্ষী

নজরদারিতে মাদকে জড়িত শতাধিক কারারক্ষী

দেশের কারাগারগুলোতে মাদকের সহজলভ্যতা নতুন কোন তথ্য নয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাদক ব্যবসা রীতিমত জমজমাট হয়ে উঠেছে কারাগারগুলোতে। সারাদেশে আটষট্টিটি কারাগারের ৬৪টিতেই এখন মাদক পাওয়া যায়।

কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছে প্রায় পঁচাশি হাজার। এর এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ আঠাশ হাজারই মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামি। তাদের একটি অংশ মাদক ব্যবসায়ী,যারা কারাগারে বসেও ব্যবসা চালিয়ে যেতে মরিয়া।


কারা মহাপরিদর্শক ব্রি. জে. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন জানান, নানা কায়দায় মাদকদ্রব্য কারাগারে পৌঁছে যায়। অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করে কারারক্ষীদের অনেকেই।

প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একইসাথে কারাগারে মাদকের ব্যবহার ঠেকাতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক।


গোয়েন্দা তথ্য বলছে, কারাগারে মাদক সরবরাহ, সেবন ও ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে একশরও বেশি কারারক্ষীর

মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সম্প্রতি তিন কারারক্ষীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও তিনজনকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, তেরো কারারক্ষীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

গত বছরের মার্চ মাসে শরীয়তপুর কারাগারের সালাউদ্দিন, পলাশ হোসেন ও ফারুক হোসেন নামে তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ আসে। অভিযোগ আসার পরপরই তাদের সাময়িক বরখাসস্তকরা হয়। এরপর বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। এছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী রায়হান উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলামকে অন্যত্র শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মোমিনুল ইসলামকে গত মার্চ মাসে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়া মাদকের সংশি­ষ্টতার অভিযোগে অনেকের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে পদাবনতি, পদোন্নতি না দেওয়া, অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।