DBC News
পাল্টে গেছে ঢাকার মাদক স্পটগুলির চিত্র

পাল্টে গেছে ঢাকার মাদক স্পটগুলির চিত্র

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে পাল্টে গেছে রাজধানীর মাদক বিক্রি স্পটগুলোর চিত্র, প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে প্রকাশ্যে ইয়াবা-ফেন্সিডিল বিক্রি।

তেজগাঁও, কাওরানবাজার এবং জেনেভা ক্যাম্পে সরজমিনে দেখা গেছে সেখানে প্রকাশ্যে ইয়াবা ফেন্সিডিল বিক্রি প্রায় বন্ধ। তবে বিক্ষিপ্তভাবে গাজা বিক্রি করতে দেখা গেছে কয়েক জায়গায়।

মঙ্গলবার দুপুরে তেজগাঁও রেলষ্টেশনে প্লাটফর্মের জটলাতে আলোচনা ইয়াবা বিক্রি নিয়ে। রেললাইন ধরে গড়ে ওঠা বস্তি ঘেষা চায়ের দোকানে আফসোস করতে থাকে এক মাদকসেবী। কারণ অভিযানের পর থেকে আর গাজাও পাচ্ছেন না তিনি। 

 
কাওরানবাজার বস্তিতে একজনকে দেখা যায় গাজা হাতে। বললেন অভিযানের পর থেকে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে না। গাজাও পাওয়া যায় খুব কম। তিনি এনেছেন টঙ্গি থেকে।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বোবা বিরিয়ানির গলিতে এতদিন প্রকাশ্যেই বিক্রি হত ইয়াবা। র‌্যাবের অভিযানের পর জেনেভা ক্যাম্পের চিত্রও পাল্টে গেছে।


গত ২৪শে মে র‌্যাব মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে আর পুলিশ কারওয়ানবাজার অভিযান চালায়। 

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ৫০৩ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের র‌্যাব-২-এর কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে মাদকের সঙ্গে জড়িত না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয় ৩৫০ জনকে। বাকিদের মধ্যে ৯৬ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে। ৫৭ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়। আটকদের মধ্যে কয়েকজন নারী মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। ক্যাম্প থেকে প্রায় ১৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

এছাড়া রাজধানীর কাওরানবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৭ জনকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসময় ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ আছে এসব অভিযানের আগাম খবর পৌছে যায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। 

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাদক বিরোধী অভিযানে নামে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের সময় পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' গেল ১৭দিনে মারা যায় ১২২ জন মানুষ। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যের আত্মীয় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাও আছেন। আটক হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযানে 'বন্দুকযদ্ধে'র বিরোধীতা করে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এটিকে 'বিচার বহির্ভূত হত্যা' উল্লেখ করে তারা বলছেন, এভাবে মানুষ হত্যার মধ্যে দিয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি হুমকির মধ্যে পড়েছে। তাই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।