DBC News
ভোলা-২ আসনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া

ভোলা-২ আসনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া

 

জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া বইছে সারাদেশে। এখনও বাকি প্রায় আট মাস। ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন ভাবে লবিং তদবির চালাচ্ছেন। চলছে প্রচার-প্রচারনা। ভোলার চারটি আসনেই নির্বাচনের উওাপ বিরাজ করছে। ভোলা- ২ আসনেও নির্বাচনের উওাপ বইছে।

বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলা নিয়ে ভোলা-২ আসন। ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন মিলে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৮ জন। স্বাধীনতার পর এই আসনটি দুইবার হাতছাড়া হলেও এটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে।

বর্তমানে এই আসনে সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। এ আসন থেকে তার পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী দলের নেতারা।  

এ ছাড়া ড. আশিকুর রহমান শান্ত আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন। তিনি এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তোফায়েল আহমেদের কাছে হেরে যান। তিনি এলাকায় তেমন আসছেন না এবং আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছেন দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী।

এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তিনি এলাকায় আসছেন না বলে জানান দলের নেতাকর্মীরা। এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও যুবলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান হিরণও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানা যায়।

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রয়েছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এ আসনে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা হাফিজ ইব্রাহিম। কিন্তু মামলা জটিলতায় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। এবার হাফিজ ইব্রাহিমের পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির এম আলমও।

আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর চেয়ে অনেকটা পিছিয়েই রয়েছেন বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। তাঁরা কেউ এলাকায় তেমন আসছেন না। কেউ কেউ ঢাকা ও চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। কেউ বা দেশের বাইরেও আছেন।

এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী, ফুটবলার আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর এম আলম ও রফিকুল ইসলাম মমিনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তাঁরা এলাকায় খুব একটা আসছেন না।
 

আগামী নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, কেফায়েত উল্যাহ নজীব ও মিজানুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁরাও কেউ এলাকায় কোনো গণসংযোগ করছেন না। তাঁরা সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানায় এলাকাবাসী।

বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম থমকে আছে। দলীয় নেতাকর্মীরাও আপাতত নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তার পরও আবুল বসারের নেতৃত্বে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াত কিছুটা সংগঠিত। তারা ওই উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে এবং পৌরসভার পাশের একটি দাখিল মাদরাসায় নিয়মিত সভা করছে বলে জানা গেছে। তবে এ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির লক্ষ্য আসনটি পুনরুদ্ধার।