DBC News
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অ্যাডহক কমিটি হবে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অ্যাডহক কমিটি হবে

আজ ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ কর্ম অধিবেশন হয়। 

অধিবেশন শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডা. দীপু মণি গণমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

অধিবেশনে কানাডার প্রতিনিধি বব রে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, তাকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দায় এড়াতে পারে না মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোকে নিয়ে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কানাডা। 

এরপর ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ আল ওথায়মিন বলেন, মুসলিম বিশ্বের উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একযোগে কাজ করা। 

দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেনন ৫৭টি দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৬শ'র বেশি প্রতিনিধি। 
 

বাংলাদেশের নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরও মিয়ানমারের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কার্যকর কোন ধরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সফরের পর সমস্যা সমাধানে আশার আলো দেখছেন রোহিঙ্গারা। 

গত বছরের ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকেই বসবাস করা আরো ৩ লাখসহ এসব রোহিঙ্গারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। তবে সে অনুযায়ী শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। 

এ অবস্থায় গত ২৯শে এপ্রিল কক্সবাজারে দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিসহ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মিয়ানমারে তাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ও বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনেন তারা। 

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের বড় ভূমিকা আশা করছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের দেয়া ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে মাত্র ৭০০ জনকে ফেরত নিতে রাজী হয়েছে মিয়ানমার। এতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে দেশটির আন্তরিকতায় দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া গতি পেতে পারে।