DBC News
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে ওআইসির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে ওআইসির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

 

বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে ওআইসিকে আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসির অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২ দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই আহবান জানান তিনি। 

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসির ৫৬টি সদস্য দেশের মধ্যে ৫২টি দেশের ৬০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। 

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্পূর্ণ মানবিক কারনে বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না। বিশ্ব এখন এমন একটা সময় পার করছে, যখন অতীতের থেকে আরও বেশি যুদ্ধ, সংহাত ও অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসির একান্ত ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য ওআইসিকে দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমরা আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ব্যথায় ব্যথিত। কারণ, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের ১৮জন সদস্য নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে ছয় বছর দেশে ফিরতে পারিনি, উদ্বাস্তু হিসেবে বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছি।

মুসলমানদের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন,'মুসলিম বিশ্ব আগে কখনও এত বেশি পরিমাণ সংঘাত, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিভাজন ও অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। লক্ষ্য করা যায়নি এত ব্যাপক হারে বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর দেশান্তর। আজকে মুসলমান পরিচয়কে ভুলভাবে সহিংসতা ও চরমপন্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।'

‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বঙ্গবন্ধুর সময় নেয়া বাংলাদেশের এ পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা মনে করি আজ ইসলামী বিশ্বে যেসব মতপার্থক্য ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা খোলামন নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ইসলামী বিশ্বের রূপকল্প এমন হতে হবে যাতে আমরা আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারি। আমাদের নিজেরাই সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান করতে পারি। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ফলাফল-কেন্দ্রিক নতুন কৌশল-সম্বলিত একটি রূপান্তরিত ওআইসি।'

দ্বন্দ্ব সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতে মুসলিম উম্মাহর শক্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতে ওআইসি পুণর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে (সিএফএম) যোগ দিয়েছেন। এবারের সিএফএম সম্মেলনে সব রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২৫ বছর পর ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১৪তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।